Monday, September 3, 2018

নারীর মুক্তি ( পর্ব- ১)

কেউ একজন যদি গাছে চড়তে চাই তাহলে নিচ থেকে কয়েকজন লোকে সর্বোচ্চ গাছের গোড়ার মোটা অংশটুকু ঠেলে পার করে দিতে পারে। বাকি অংশটুকু তাকে তার নিজের শক্তি আর মনোবল দ্বারাই চড়ে চড়ে পার করে গাছের উপরের অংশে ওঠতে হয়। উপরের অংশটুকু নিজে চড়ার ইচ্চা আর মনোবল না থাকলে নিচে থেকে হাজার লোকে ঠেলেও তাকে গাছের ঠগায় তোলতে পারবেনা। হাজার লোকেও তাকে সেই গোড়ার অংশটুকু টপকাতেই সাহায্য করতে পারবে।এর বেশি কিছুই করতে পারবেনা। আর এই নিজের ইচ্চা আর মনোবল না থাকলে তার কখনো গাছে চড়া হবেনা।
আমাদের নারীজাতি আর নারীবাদীদের হলো একই দশা! আমাদের নারীরা কখনো তাদের এই অবহেলার বেড়াজাল থেকে বেরুতে পারবেনা। কারন তারা নিজেদের পরিবর্তন করতে  চাইনা।
নাদিয়া ইসলাম, তসলিমা নাসরিনদের মতো নারীবাদীরা শত চেষ্টার পরেও এই অবস্থার পরিবর্তন করতে পারবেনা। কারন তারা শুধু এই   শৃঙখলে আবদ্ধ নারীদের গাছের গোড়া মোটা অংশ টপকানোর মতো মনে শৃঙখল ভাঙার রসদ জুগাতে পারবেন। এর বেশি কিছু পারবেন না। বাকিটুকু নিজেকেই করতে হবে একা বেয়ে বেয়ে গাছের ঠগায় ওঠার মতো।
হয়ত অনেক নারীরাই এখন শৃঙখল মুক্ত। কিন্তু সবার তুলনায় তা অতি নগন্য।  যা উদাহরন বা বিশ্লেষণে ও পড়ে না।
আমি একটা কথা বলেছিলাম যে আমাদের দেশের নারীরা নিজেরায় পরিবর্তন হতে চাইনা। কারন তারা পরাধীনতাকেই ভালবেসে ফেলেছে। তাই স্বাধীনতার স্বাদ আর তাদের গ্রহণ করা হয়ে ওঠেনা। তারা পরাধীন থাকতে থাকতে তারাও যে ইচ্চা করলে বাঁধ ভাঙতে পারে একথা ভুলেই যায়।৷ 
আমাদের নারী জাতিকে যে রোগে দূর্বল করে রেখেছে তার নাম হল চক্ষু লজ্জ্বা।  এই চক্ষুলজ্জার কারনেই নারী জাতিকে আজও এত ধবল সহ্য করতে হচ্ছে। নারীজাতির এই মুক্তির জন্য প্রথমেই তাকে চক্ষুলজ্জা পরিহার করতে হবে। চক্ষুলজ্জা পরিহার করার মানে এই নয় যে চোখে চোখ লাগিয়ে ঝগড়া করা, সকলের অবাধ্য হওয়া।  চক্ষু লজ্জার পরিহার মানে হল নিজের মনের ইচ্চা ভাবনা কাওকে ভয় না পেয়ে তুলে ধরা, সত্য অকপটে বলা, নিজেদের প্রতি হওয়া বৈষম্য নিজেদেরই দূর করা। এই চক্ষুলজ্জার কারনে তারা না পারে ফ্যামিলিকে মনের ইচ্চা জানাতে, না পারে সমাজে নিজের ইচ্ছে মতো চলতে।
আজ আর বেশি কিছু বলবনা। শুধু এটুকুই বলি আমরা সবাই সমান।
বিঃদ্রঃ স্বাধীনতা মানে বেহেয়াপনা নয়, স্বাধীনতা মানে চারপাশ উজ্জল করা, নিজের মনের চিন্তা বাস্তবে রুপ দেওয়া।

Monday, August 20, 2018

পাব কি দেখা?

শরৎতের এই অসহ্য গরমে
কাঠফাটা রোদ্র মাথায় নিয়ে
পথে প্রান্তরে,  মাঠে ঘাটে
তোমায় খুঁজে ফিরি সর্বস্থানে। 
পাবো কিনা দেখা তাও জানিনা
ওগো আমার প্রিয় অপরিচিতা!!!

Tuesday, August 14, 2018

আমরা শোকাহত

আজ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকী।  এই দিনে এই মহান নেতার প্রতি রইল গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি

Thursday, August 9, 2018

অপরিচিতা থেকে চিরপরিচিতা

কোলাহল আমার চিরকালেরই বিরক্তির কারন। তাই শহর থেকে মোটামোটি অনেকটা বেড়িয়ে হাটতে হাটতে গ্রামাঞ্চলের দিকে চলে গেলাম। মেঠোপথের ধার দিয়ে হাটতে হাটতে পৌছে গেলাম একটা বিশাল নির্জন ফাঁকা জায়গায়। আমি রাস্তার ধারের ঘাসের মাঝে বসেছিলাম। রাস্তাটা মোটামোটি জনমানবহীন। খুব কম লোকেই এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করে। আর আমার সামনে ছিল বিশাল এক জলাভূমি।  আমি এটাকে বিল বলব,  নাকি ডোবা বলব, নাকি অন্যকিছু বলব তা ভেবে ওঠতে পারিনি। একা একা অনেকক্ষণ যাবত বসে আছি। জল থেকে আসা বাতাসে হালকা হালকা চুল উড়ছে।  এবাবে প্রায় ঘন্টা খানেক আনমনে বসে থাকলাম।  কি যেন বসে বসে ভাবছিলাম, হয়ত বিচরন করছিলাম কল্পনালোকে।
হঠাৎ একটা স্পর্শে আমি খেয়ালে ফিরে আসলাম। কে যেন আমার দুচোখ দুহাত দিয়ে ঢেকে রাখছে। হালকা হাসির শব্দে আমার বুঝতে অসুবিধা হলোনা যে যিনি আমার চোখ বন্ধ করে রেখেছেন তিনি একটা মেয়ে। সে বললঃ
- বলুন তো আমি কে?
- আমার অপরিচিতা।
-  অপরিচিতা মানে?? বলতে বলতে মেয়েটি আমার চোখ থেকে হাত সরিয়ে নিল।
আমার বুঝতে একটু অসুবিধা হলনা যে মেয়েটি নিশ্চয় কারো সাথে আমাকে মিলিয়ে ফেলেছে। তাই আমার মুখ দেখে রীতিমতো চমকে ওঠল। হয়ত অপরিচিত কারো চোখ ধরে ফেলেছে বলে। আমি বললামঃ
- অপরিচিতা হলো আমার স্বপ্নের রাণী।
- তাহলে সে কোথায়?
- তাকেই তো খুঁজছি। সে তো আমার স্বপ্নে থাকে।
- হা হা ( হালকা হেসে) ।  আপনি এই বিলের মাঝে আপনার অপরিচিতাকে খুঁজছেন নাকি?
- তা হবে কেন?
  সাদার মাঝে আকাশী রঙের কি জানি একটা ড্রেস , পায়ে নুপুর পড়া মেয়েটি হঠাৎ ওঠে চলে যেতে চাইল। আমি বললামঃ
- আরেকটু থাকেন না।
- থাকলে কি হবে?
- একটু কথা বলা যাবে। একা একা তো অনেকক্ষণ যাবত বসে রইলাম তো।
- আচ্ছা ঠিক আছে।  আপনাকে তো আগে এই এলাকায় কখনো দেখেছি বলে মনে হয়না? আপনার বাসা কোথায়?
- আমার বাসা ময়মনসিংহে। আজকেই প্রথম এই এলাকায় আসলাম।
- ও। তো কেন আসলেন? কোনো কাজ আছে নাকি?
- নাহ। কোনো কাজ নেই। বললামই তো আমার অপরচিতাকে খুঁজতে এসেছি। আমার মনে হয় তাকে আমি এই এলাকাতেই খুঁজে পাব।
-খুঁজে কি পেয়েছেন?
- না।  এখনো পাইনি। কিন্তু খুব শ্রীগ্রই পেয়ে যাব বলে মনে হচ্ছে।
- আপনি তো খুব আজব লোক।  নিজের অপরিচিতাকে খুঁজতে আপনি সেই ময়মনসিংহ থেকে এখানে এসেছেন। আচ্ছা আমি আপনাকে আপনার অপরিচিতা খুঁজে পেতে সাহায্য করব।
- শুনে খুশি হলাম। ধন্যবাদ।
- আচ্ছা এত কথা বলছি তার মাঝে তো আপনার নামটাই জানা হলনা। কি নাম আপনার?
- আমার নাম নাসিম!  আপনার?
- আমার নাম অধরা।
- বাহ! খুব সুন্দর নাম তো আপনার।
- ধন্যবাদ।  আপনার নামও মন্দ নয়।
একজন বাদাম বিক্রেতার কাছ থেকে কিছু বাদাম কিনে রাখলাম। বললামঃ
- নেন। কিছু নেন।
- ঠিক আছে। আচ্ছা আমরা তো অনেকটা ফেন্ড হয়ে গেলাম।  তাহলে তো আমরা এখন আপনি আপনি না বলে তুমি করেই বলতে পারি।
- আচ্ছা ঠিক আছে।  আপনার ইচ্ছা।
- আবার আপনি?
- সরি তোমার ইচ্ছা।
- তো তোমার অপরিচিতা দেখতে কেমন?
- হা।  ও দেখতে আমার মনের মতো। 
- তাহলে সেটা আমি বুঝব কি করে সে কেমন?
- ধরে নাও তোমার মতোই।
- আমার মতো??? (একটু অবাক হয়ে)
- হা।
- আচ্ছা খুজে দিতে চেস্টা করব।
- আচ্ছা তোমার কি কোনো মনের মানুষ নেই?
- নাহ!  অনেকেই প্রস্তাব দিয়েছিল কিন্তু মনের মতো না হওয়ায় গ্রহন করিনি।
- আচ্ছা তোমার কেমন ছেলে পছন্দ?
- সহজ সরল সাদা মাটা পরিষ্কার মনের একটা ছেলে। যার সব কিছু ঘিরে থাকব শুধু আমি।
- বাহ!  ভাল।
- কি ভাল?
- মনের ইচ্চা।
- অনেকক্ষণ তো হল। এবার আমাকে  যেতেই হবে। বাড়িতে বোধ হয় খুঁজছে?
- তোমাদের বাড়ি কোনটা? 
-ঐযে গাছগুলোর মধ্যে দিয়ে দেখা যাচ্ছে ছোট্র একটা বাড়ি ঐটা।
- বাহ!  বেশ ভাল। আরেকটু বসো প্লিস?
- আচ্ছা ঠিক আছে কিন্তু বেশিক্ষণ নয় কিন্তু। নৌকা চড়েছো কখনো?
- হা চড়েছি। নানু বাড়িতে যাওয়ার সময় নৌকা দিয়ে যেতে হয়। কিন্তু এই ডিঙিগুলো কখনো চড়িনি।
- কেন?
- সাঁতার জানিনা তো। যদি কখনো উলটে যায়?
- তুমি সাঁতার জাননা? আচ্ছা আরেকদিন দেখা হলে ডিঙি চড়াতে নিয়ে যাব।
- বেশ! 
- সত্যিই এবার কিন্তু আমাকে যেতে হবে। তোমার সাথে বলে ভালই লাগল। ভালো থেকো।
- আরে কোথায় যাচ্ছ? যাওয়ার আগে ফোন নাম্বার টা তো দিয়ে যাও, অপরিচিতাকে খুঁজে পেলে কিনা জানব কি ভাবে?
- আচ্ছা নিন. ০১৭********
-ধন্যবাদ।  আবার দেখা হবে। ফোন দিলে ধরো।
সে চলে গেল। কিন্তু সেই শেষ বিকালে আমার আছে রেখে গিয়েছিল এক মধুর স্মৃতি।  সেখানে আরো কিছুক্ষণ বসে থাকার পর হেঁটে হেঁটে বড় রাস্তায় ওঠে একটা গাড়ি ধরে শহরে চলে আসলাম। তারপর সেখান থেকে সন্ধার গাড়ি ধরে বাড়ি ফিরে আসলাম। ক্লান্ত শরীর,  সাথে একগুচ্ছ মধুর স্মৃতি। সত্যি বলতে কি আমার মনটাই সেদিন হারিয়ে ফেলে এসেছিলাম মেঠোপথের ধারের জলাশয়ের পাশের সেই নুপুর পড়া,  ভুল করে আমার চোখ ধরে ফেলা মেয়েটির মাঝে।
রাতে বাড়ি ফিরে ফ্রেস হয়ে খাবার সেরে তাকে ফোন দিলামঃ
- হ্যালো।  কে অধরা?
- হা।  আপনি কে?
- আমি নাসিম
- ও তুমি?
.
.
.
.
-এভাবে দুজনে একসাথে থাকব সবসময়।
.সেই যে কথা শুরু হল আজও চলছে। চলুক না জীবনভর।
ধীরে ধীরে সেই অধরাই হয়ে ওঠল আমার সেই স্বপ্নের মেয়ে।  আমার অপরিচিতা...

@নাসিম কর্তৃক লিখিত....

Saturday, August 4, 2018

ক্ষণিকের অতিথি

ক্ষণিকের জন্য আসি আমি
তোমাদের সবার জীবনে
আবার ঠিক চলে যাই 
তোমার স্বার্থ মিটিলে
তোমাদের মাঝে আসা যাওয়ায় 
মোর জীবন করেছি দান
এর মাঝেই গেয়ে যাই আমি
আমার ক্ষণিকের সুখের গান।
---------------------- নাসিম

Friday, July 20, 2018

অতিথি সংস্কৃতির আগমণ ও আমাদের মাঝে তার প্রভাব অতিরিক্ত ভাবে প্রভাবিত করার ফলে আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতি মরি মরি অবস্থা।
কুপি বাতির তেল যেমন শেষ হয়ে গেলে তার শিখা ধীরে ধীরে নিবে যেতে থাকে তেমনি অতিথি সংস্কৃতির প্রভাবের কারনে আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতির বেহাল দশা। 
আমরা ভুলে যাচ্ছি যে আমাদের ঝুলিতে আছে এক গৌরবান্বিত ইতিহাস, আছে নিজস্ব শ্রুতিমধুর ভাষা, আমাদের দেশে বার মাসে তেরটি প্রাবন হয়। আছে পহেলা ইবৈশাখ, বই মেলা, পৌষ মেলা, নবান্ন সহ কত মধুর উৎসব। কিন্তু আমরা এসব ছেড়ে যত আজাইরা বিদেশী অনুষ্ঠান নিয়ে ব্যস্ত।
আমরা এটা কেন মানতে চাই না যে শুট বুট আর টাই আমাদের সম্মান বাড়াতে পারবে না। এতে আমাদের কোনো গৌরব নেই। আমাদের সম্মান তো নিহিত আছে ঐ লুঙ্গি, ধুতি আর পাঞ্জাবির মাঝে। আমাদের রমনীদের আসল সৌন্দর্য ঐ টিজ, লেহেঙ্গা, প্লাজু আর হাই হিলে না। তাদের আসল সৌন্দর্য তো শাড়ীতেই ফুটে ওঠে। 
আমাদের মুখের স্বাদ তো বার্গার, চাইনিজের মধ্যে না। স্বাদ তো ঐ দুধ চিতল, ভাপা, আর রসের পিঠার মাঝে।
আমাদের মনের ভাব তো জাস্টিন বিভার, শাকিরার গানে প্রকাশ পায় না। আমাদের মনের ভাব তো প্রকাশ পায় রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, হাসনরাজা, আর লালনের গানে।।। 
আমরা চাইলে অনেক কিছু করতে পারি। কিন্তু সেই ইচ্ছা শক্তির যে বড়ই অভাব।
আচ্ছা আমরা বাঙালিরা এমন কেন???????????

Tuesday, May 22, 2018

স্বপ্নে বিভর


---------- নাসিম
.
আমার বাড়ির পাশে এসে ডাকপিয়ন জোরে জোরে ডাকছে। নাসিম বাড়ি আছো? আমি ঘর থেকে বের হয়ে ওনার কাছে যেতেই ওনি বললেন আপনার নামে একটা চিঠি এসেছে।চিঠিটা খুলে দেখলাম আমার নানু বাড়ি থেকে পাঠানো হয়েছে। পড়ে দেখলাম গ্রীষ্মের ছুটিয়ে যেন সেখান থেকে বেড়িয়ে আসি। আমি ভাবলাম অনেকদিন ধরে যেহেতু যাওয়া হয়না তাই এই ছুটিতে একবার ঘুরে আসলে মন্দ হয়না। তাই পরদিন সকাল করে রওনা দিলাম নানু বাড়ির উদ্দেশ্যে। নানু বাড়ি আমাদের বাড়ি থেকে মোটামুটি দূরে হওয়ায়।আমি কিছুটা পথ হেটে গিয়ে একটা গরুর গাড়িতে ওঠলাম। গরুর গাড়ির হালকা দোল, চাকার ক্যাচ ক্যাচ আওয়াজ সাথে গাড়িয়ালের গলার ভাটিয়ালি গান সত্যিই একটা উপভোগ্য মুহূর্তের সৃষ্টি করেছে। সাথে আমিও মনের সুখে গুনগুনিয়ে গান গাইতে লাগলাম। এবাবে চলতে চলতে প্রায় ২ ঘন্টাতে অনেকটা পথ এসে পরেছি। এখন নদী পার হয়ে কিছুদূর গেলেই নানুর বাড়ি। পানিতে ভরা নদীর মাঝে পাল উড়িয়ে কয়েকটা নৌকা চলছে। আমি ভাল দেখে এক নৌকার মাঝি ভাইকে ডাক দিয়ে নৌকাই ওঠে বসলাম। এই গরমে নদীর বাতাসে শরীরটাকে শীতল করে তুলেছে। নৌকা এসে পাড়ে ভিড়ল। আমি নৌকা থেকে নেমে হাটা শুরু করলাম। ১০ মিনিটের মতো হাটলে নানু বাড়িতে পৌছে যাব। সরু মেঠো পথ ধরে হাটছি। রাস্তার পাশের জমি গুলাতে দেখি কেউ কেউ লাঙল দিয়ে হাল চাষ করছে, কেউ জমিতে নিড়ানি দিচ্ছে, কেউ ফসল তোলছে। সবার মুখেই হাসি। এবাবে বেশ কিছুক্ষন হাটতে হাটতে নানু বাড়িতে পৌছে গেলাম। এসে গরমের মাঝে ফ্রেস হয়ে হালকা নাস্তা করে মাদুর পেতে ওতে বসে বসে হাতপাখা দিয়ে বাতাস করছি। এভাবে দুপুর কাটিয়ে দিলাম। বিকালে মামাত ভাইদের নিয়ে মাঠে গেলাম ঘুড়ি ওড়াতে, ঘুড়ি ওড়িয়ে, কানা মাছি খেলে, দৌড় ঝাপ পেরে সন্ধ্যাই নামু বাড়িতে ফিরলাম। এসে দেখি নানু আমার জন্য বিভিন্ন রকমের পিঠা বানাচ্ছে। প্রত্যেক ঘরে ঘরে হারিকেন জ্বলছে। আমি ঘর থেকে মাদুরটা এনে উঠুনে বিছিয়ে দিলাম। চাদানী রাতে তারা ভরা আকাশের নিচে বসে মামাত ভাইবোনদের সাথে গল্প করছি আর নানুর বানানো পিঠা খাচ্ছি আর হাতপাখা দিয়ে বাতাস করছি। রাতের খাওয়া সেরে হারিকেনটা নিভিয়ে জানালার পাশে শুয়েছি দেখি জানালা দিয়ে চাঁদের আলো ঘরে আসছে, ঝোপের ধারে সহস্র জোনাকির মিট মিট আলো সাথে ঝি ঝি পোকার ডাক। এসব দেখতে দেখতে কখনযে ঘুমিয়ে পড়েছি তা খেয়াল নেই। পরদিন সকালে পাখি কলকাকলিতে ঘুম থেকে ওঠে মামার সাথে হাটতে বের হয়েছি। দেখি ছোট ছোট ছেলে মেয়েরা সবাই দল বেধে মক্তবে যাচ্ছে। গৃহিণীর উঠোন ঝাড়ু দিচ্ছে। কৃষকরা লাঙল জোয়াল কাধে নিয়ে জমির দিকে যাচ্ছে। তারপর বাড়িতে ফিরে নাস্তা করে আবার ঘুরিতে বের হলাম। দেখি কতকগুলা মেয়েরা একসাথে বসে গল্প করছে আর কাথা সেলাই করছে। সবাই যার যার মত ব্যস্ত হয়ে পরেছে। দুপুতে মামা, মামাত ভাইদের সাথে নিয়ে নদীতে গোছল করতে গেলাম। সাঁতার, ঝাপাঝাপি করে নানু বাড়িতে ফিরে দুপুরের খাবার খেয়ে সবার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম। বাড়িতে ফিরার সময় গরুর গাড়িতে বসে বসে সূর্যাস্তের দৃশ্য দেখ ছিলাম আর ঝিমুচ্ছিলাম। হঠাত একটা টুং শব্দে আমার দিশা ফিরে এল। দেখলাম আমার মেসেঞ্জারে এক বন্ধু মেসেস করেছে। আমার স্বপ্ন ভেঙে গেল। এতক্ষনের বিষয়গুলা আমি চোখ বুজলেই কল্পনাই খুজে পাই। বর্তমানে এই যান্ত্রিক জীবন মানুষকে অমানুষে।পরিনত করেছে। এত দ্রুত গামী যোগাযোগব্যবস্থা, বিভিন্ন যন্ত্র, মোবাইল, ফেইসবুক মানুষকে আবেগহীন অনুভূতিহীন করে তুলছে। কত্ত সুন্দর ছিল সেই রঙিন ভুবন। তাই আমি সব সময় বলি
লও এই নগর
ফিরিয়ে দাও আমার অরণ্য....

মেয়েদের বুঝি সৃষ্টিকর্তা কোনো এক শুক্রবার খুব যত্নে, আদরে গড়েছেন।

 মেয়েদের বুঝি সৃষ্টিকর্তা কোনো এক শুক্রবার খুব যত্নে, আদরে গড়েছেন।🥰🥰 হলি ক্রস কলেজের প্রিন্সিপাল সিস্টার শিখা মহিয়সী ছাত্রীদের উদ্দেশে ব...